মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর তা যদি ভালোবাসার হয়, তো কথাই নেই। কিন্তু আমাদের এ ব্যস্ত জীবনে আমরা কতটুকুই বা সময় পাই প্রিয় মানুষটির সঙ্গে কাটানোর। এ ক্ষেত্রে ব্ল্যাক বেরি ম্যাসেঞ্জার (বিবিএম), হোয়াটসঅ্যাপ এমনকি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক সহায়ক ভূমিকা রাখে। কিন্তু এর মাধ্যমে যখন আমরা ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি তখনই তা বিপদের কারণ হয় দঁাড়ায়। আর এসব করা সম্ভব স্মার্ট মোবাইল ফোনের সাহায্যে। কারণ সেখানে সব সুযোগই বিদ্যমান।
মনোবিজ্ঞানী মানসি হাসান বলেন, Èএই মাধ্যমগুলো ততক্ষণই গুরুত্বপূর্ণ যতক্ষণ আপনি আপনার সঙ্গীর সঙ্গে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলেন। কিন্তু সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণও এসব মাধ্যম।’
মানসি আরও বলেন, প্রত্যেক দম্পতির মধ্যেই ঝগড়া হয়। কিন্তু যখন আপনি ম্যাসেজের মাধ্যমে এ ঝগড়ার মিটমাট করতে চাইবেন তখন দেখবেন আপনি হয়তো এমন কিছু লিখেছেন যার ভুল ব্যাখ্যা করেছেন আপনার সঙ্গী। আর সামনাসামনি যখন আপনি এ ভুল ভাঙার চষ্টো করছেন, ততক্ষণে হয়তো অনেক দেরি হয়ে গেছে।
গণমাধ্যম কর্মী প্রিয়া গুপ্ত বলেন, Èপ্রথম দিকে আমি ও আমরা স্বামী নিজেদের কাজ নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতাম। আমাদের ফোনে বা চ্যাটে ঝগড়া হতো।’
দম্পতিদের একজন আরেকজনের সঙ্গে কাটানোর পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে তঁাদের জীবনের নানা বিষয় নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করেন ২৫ বছর বয়সী রোহান শর্মা। তিনি বলেন, Èএক বছর প্রেমের সম্পর্ক থাকার পর তার সঙ্গে আমার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তখন আমি খুব ব্যস্ত থাকতাম এবং মাঝেমধ্যে রাতেও কাজ করতে হতো। আমি একসময় খেয়াল করলাম সে তার বিষয়গুলো নিয়ে আমার সঙ্গে তেমন কথা বলে না।’
মনোবিজ্ঞানী মানসি এ ধরনের আচরণকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন। তিনি বলেন, Èধীরে ধীরে আপনি আপনার বিষয়গুলো আর সঙ্গীর সঙ্গে নয় বরং অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এবং যখন আপনি দেখবেন কেউ আপনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে তখন আপনার মধ্যে তঁার প্রতি ভালোলাগা তৈরি হবে।’
সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোতে প্রতিনিয়ত আপনি আপনার ছবি ও স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারেন। এবং স্মার্ট ফোনের মাধ্যমে এটা আরও সহজে সম্ভব হয়েছে। এতে আপনি যত খুশি মন্তব্য ও আলোচনা করতে পারেন। মানসি বলেন, Èএসব সাইটে খুব সহজেই প্রেমের ভান করা যায়। আর আপনার সঙ্গী যদি খুব ব্যস্ততার কারণে আপনাকে সময় দিতে না পারে তখন আপনি Íনতুন কোনো বন্ধু”র সঙ্গে সময় কাটাবেন। এবং আসে্ত আসে্ত এ বন্ধুত্ব প্রণয়ে রূপ নেবে।’
তবে এ পর্যায়ে পঁেৌছানোর আগে ওই নতুন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করে দুজনের মধ্যে কথা বলে নেওয়াটাই সমীচীন বলে মনে করেন মানসি।
বৈবাহিক জীবনের বাইরে আরেক নারীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা মেহতা। তিনি বলেন, তঁার সাবেক স্বামী সব সময় ফোনে ব্যস্ত থাকত। এ নিয়ে তঁাদের মধ্যে প্রচুর ঝগড়া হতো। একপর্যায় তঁার বিবাহ-বহিভর্ূত সম্পর্কের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
অনেক বেশি বন্ধু এবং বিভিন্ন ধরনের চ্যাট গ্রুপ থাকার কারণে তরুণ প্রজন্ম এখন আর সম্পর্কের ব্যাপারগুলোকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। খুব সহজেই এক অন্যকে ছেড়ে দেয়। কারণ তারা মনে করে একজনকে ছাড়লেও খুব সহজেই অন্য আরেকজনকে পাওয়া যাবে।
সামাজিক বাস্তবতায় ফোনে অনবরত কথা বলা প্রসঙ্গে মানসি বলেন, এক নারী অনবরত ফোনের সাহায্যে চ্যাটে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতেন। এমনকি তিনি বাড়িতে থাকলেও একই কাজ করতেন। এতে তঁার স্বামী কষ্ট পেতেন। স্ত্রীর কাছে ফোনের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলতেন তিনি তঁার বন্ধুদের সঙ্গে এমনি গল্প করছেন। ওই নারী তঁার স্বামীকে বোঝাতে চাইতেন ঘর সংসার ছাড়াও তঁার একটা সামাজিক জীবন আছে।
হিন্দুস্তান টাইমস অনলাইন অবলম্বনে

